সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ , ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাল্লায় নিরীহ পরিবারের বাসা দখলে ঘোষণা দিয়ে হামলা ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন চায় বিএনপি’র তৃণমূল দালালের ফাঁদে নিঃস্ব অভিবাসন প্রত্যাশীরা, হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা দিরাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিল’ পাস শান্তিগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ কর্তন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, মেরামতের নির্দেশ উদ্বোধন হলো ‘মা ও শিশু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ হাওরে দেশি ধান কাটা শুরু দোয়ারাবাজারে অভিযুক্ত শিক্ষককে কর্মস্থলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বাধা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষক নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন সাইফুল ইসলাম নিজেদের টাকায় সরকারি সড়ক সংস্কার করলেন এলাকাবাসী ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ সংসদে পাস সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা : আদালতে নির্দোষ দাবি আরিফ, গউস ও বাবরের নদী খনন উপেক্ষিত ইউনূস সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করবে সরকার সুনামগঞ্জে অবৈধ ইটভাটায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা, কার্যক্রম বন্ধ ড. ইউনূস, সাবেক উপদেষ্টা ও প্রেস সচিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ আজহারীর পর শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

লটারিতে ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিল নয়, দরকার সংস্কার

  • আপলোড সময় : ১০-০৪-২০২৬ ১০:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৪-২০২৬ ১০:১৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
লটারিতে ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিল নয়, দরকার সংস্কার
উমর ফারুক::
বাংলাদেশে স্কুলভর্তির পদ্ধতি নিয়ে সময় সময় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে সরকারি বা জনপ্রিয় বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারিভিত্তিক পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন - এতে কী সত্যিই শিক্ষার মান নিশ্চিত হচ্ছে, নাকি এটি মেধাকে ক্রমাগত অবমূল্যায়ন করছে? অপরদিকে অনেকেই মনে করেন, প্রাথমিক স্তরে লটারিভিত্তিক ভর্তিপদ্ধতি শিশুদের জন্য তুলনামূলকভাবে ন্যায্য ও মানবিক ব্যবস্থা। বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তিপরীক্ষা চালুর চেয়ে লটারিভিত্তিক পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাবিজ্ঞানের মৌলিক নীতির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ছোট শিশুদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার চাপ : প্রথমত, ছোট শিশুদের প্রতিযোগিতামূলক ভর্তিপরীক্ষায় বসানোকে নিরুৎসাহিত করা উচিত; প্রয়োজনে এটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে। কারণ অল্প বয়সে পরীক্ষার চাপ শিশুর স্বাভাবিক মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষাবিজ্ঞানে দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত যে, শিশুরা ধীরে ধীরে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে। সুইস মনোবিজ্ঞানী জ্যাঁ পিয়াজের “জ্ঞানীয় বিকাশ তত্ত্ব” অনুযায়ী, শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বিভিন্ন ধাপে ঘটে। প্রাথমিক বয়সে তাদের শেখা মূলত খেলা, কৌতূহল, অনুসন্ধান এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে হয়। এই পর্যায়ে যদি তাদের কঠোর পরীক্ষার প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে শেখার আনন্দ কমে যেতে পারে এবং শিক্ষাকে তারা চাপ বা ভয়ের বিষয় হিসেবে দেখতে শুরু করতে পারে। লেভ ভিগোৎস্কির শিক্ষাতত্ত্বে বলা হয়েছে, শিশুর শেখা সবচেয়ে কার্যকর হয় তখন, যখন তাকে সহায়ক পরিবেশ দেওয়া হয় এবং শিক্ষক বা অভিভাবক তাকে ধাপে ধাপে সহযোগিতা করে। এটিকে বলা হয় তড়হব ড়ভ চৎড়ীরসধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ বা নিকটতম বিকাশ অঞ্চল। প্রতিযোগিতামূলক ভর্তিপরীক্ষার চাপ এই সহযোগিতামূলক শেখার পরিবেশের সঙ্গে খুব বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও একই কথা বলে। অনেক উন্নত দেশে প্রাথমিক স্তরে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ভর্তিপরীক্ষা নেই। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে ‘চার্টার স্কুল লটারি পদ্ধতি’ ব্যবহৃত হয়। যখন কোনো স্কুলে আবেদনকারীর সংখ্যা আসনের চেয়ে বেশি হয়, তখন লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ভর্তিপ্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও ন্যায্য রাখা এবং ছোট শিশুদের উপর অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ না দেওয়া। শিশুকে অল্প বয়সে ‘মেধাবী’ বা ‘মেধাহীন’ বলা অবৈজ্ঞানিক : দ্বিতীয়ত, একটি শিশুকে খুব অল্প বয়সে ‘মেধাবী’ বা ‘মেধাহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। আধুনিক শিক্ষাতত্ত্বে মেধাকে একটি পরিবর্তনশীল ও বিকাশযোগ্য ক্ষমতা হিসেবে দেখা হয়। মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ক্যারল ডুয়েকের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট অর্থাৎ বিকাশমুখী মানসিকতা’ তত্ত্বে বলা হয়েছে, মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং দক্ষতা চর্চা, অধ্যবসায় এবং উপযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমে বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি কোনো শিশুকে ছোটবেলা থেকেই বলা হয় যে, সে ‘কম মেধাবী’, তাহলে তার আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে এবং শেখার আগ্রহও হ্রাস পেতে পারে। এখানে ইতিহাসের একটি বহুল আলোচিত উদাহরণ হলো টমাস আলভা এডিসন। শৈশবে তার শিক্ষকরা তাকে খুব ভালো ছাত্র মনে করতেন না; বরং অনেক সময় তাকে ধীরগতির শিক্ষার্থী হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবক হয়ে ওঠেন। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় শিশুর সম্ভাবনাকে অল্প বয়সে সীমাবদ্ধ করে দেখা ঠিক নয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাতাত্ত্বিক ধারণা হলো হাওয়ার্ড গার্ডনারের ‘মাল্টিপল ইন্টেলিজেন্স’ অর্থাৎ বহুমাত্রিক বুদ্ধিমত্তা তত্ত্ব। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষের বুদ্ধিমত্তা একমাত্র একাডেমিক পরীক্ষার মাধ্যমে মাপা যায় না। ভাষাগত, যৌক্তিক, সৃজনশীল, সংগীত, ক্রীড়া, সামাজিক - এমন বহু ধরনের বুদ্ধিমত্তা রয়েছে। তাই একটি ছোট পরীক্ষার মাধ্যমে একটি শিশুর সামগ্রিক মেধা নির্ধারণ করা বাস্তবসম্মত নয়। বিদ্যালয়ের দায়িত্ব - মেধা তৈরি করা : তৃতীয়ত, একটি বিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশ ঘটানো। বিদ্যালয়ের কাজ আগে থেকেই ‘মেধাবী’ শিক্ষার্থী বেছে নেওয়া নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষার্থী তাদের সম্ভাবনা অনুযায়ী বিকাশ লাভ করতে পারে। আধুনিক শিক্ষা দর্শনে বিদ্যালয়কে একটি ‘লার্নিং কমিউনিটি বা শিক্ষণ সম্প্রদায়’ হিসেবে দেখা হয়- যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সবাই মিলে শেখার একটি পরিবেশ তৈরি করেন। যদি বিদ্যালয়গুলো কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে ‘ভালো ছাত্র’ বেছে নেয়, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই ক্ষুণœ হয়। এক্ষেত্রে ফিনল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মূল্যায়নে ফিনল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত সফল হিসেবে বিবেচিত। সেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ভর্তিপরীক্ষা নেই। অধিকাংশ শিশু তাদের নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখা নিশ্চিত করা। ফিনল্যান্ডের শিক্ষানীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শন হলো ‘এভরি চাইল্ড ক্যান লার্ন’, অর্থাৎ, প্রতিটি শিশু শেখার যোগ্য। অর্থাৎ প্রতিটি শিশুর শেখার ক্ষমতা আছে, শুধু প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ ও সহায়তা। প্রকৃত সমস্যা: ভালো বিদ্যালয়ের স্বল্পতা : চতুর্থত, ভর্তিতে লটারিপদ্ধতির মূল সমস্যা নয়; প্রকৃত সমস্যা হলো আমাদের মানসম্মত বিদ্যালয়ের স্বল্পতা। যখন একটি সমাজে কয়েকটি বিদ্যালয় অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং অন্য অনেক বিদ্যালয় তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ভর্তির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। বাংলাদেশে অনেক অভিভাবক নির্দিষ্ট কিছু বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করাতে চান, কারণ তারা মনে করে, সেই বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান তুলনামূলকভাবে ভালো। ফলে সেখানে আসনের তুলনায় অনেক বেশি আবেদন জমা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে যদি প্রতিযোগিতামূলক ভর্তিপরীক্ষা চালু করা হয়, তাহলে নতুন এক ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি হবে- তা হলো, কোচিং সংস্কৃতি। শিশুদের ভর্তিপরীক্ষার জন্য ছোট বয়স থেকেই কোচিং বা প্রস্তুতির চাপে পড়তে হয়। এতে শিক্ষা একটি আনন্দময় অভিজ্ঞতার পরিবর্তে প্রতিযোগিতামূলক দৌড়ে পরিণত হয়। বিশ্বের অনেক দেশ এই সমস্যার সমাধান হিসেবে বিদ্যালয়ের মান বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দিয়েছে ও দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সরকার বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাসামগ্রী উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার মান বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। ফলে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের উপর অতিরিক্ত চাপ কমছে। লটারি পদ্ধতি বাতিল নয়, প্রয়োজন সংস্কার : অতএব, লটারি পদ্ধতি স¤পূর্ণ বাতিল করার প্রয়োজন নেই। বরং এটিকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক এবং ন্যায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ভর্তিপ্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা যেতে পারে। এতে আবেদন, তথ্য-উপাত্ত যাচাই ও ফলাফল প্রকাশ একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স¤পন্ন হবে। এতে অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ কমে যাবে। বলাবাহুল্য, এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ খানিকটা এগিয়েছে। এছাড়া স্কুল বাছাই পদ্ধতি স্কুল চয়েস সিস্টেম বা স্কুল পছন্দের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে, যেখানে অভিভাবকরা কয়েকটি বিদ্যালয়কে পছন্দের ক্রমে নির্বাচন করতে পারবেন। এরপর একটি স্বচ্ছ অ্যালগরিদম বা লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে সেই তালিকার কোনও একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হবে। এতে অভিভাবকের পছন্দও বিবেচনায় আসবে এবং ন্যায্যতাও বজায় থাকবে। এই কর্মকা-ে আমাদের অগ্রগতি একেবারে খারাপ না। তবে আমাদের মূল দুর্বলতা হলো, ভৌগোলিক অগ্রাধিকারকে প্রাধান্য দেয়া। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীরা তার অবস্থানের ভৌগোলিক এলাকা বা ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় পড়বে। এতে শিক্ষার্থীদের নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ বাড়ে এবং দূরের স্কুলে যাতায়াতের সমস্যা কমে। লটারি ভর্তিপদ্ধতির জন্য বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সংস্কার যেখানে দরকার তা হলো, যথাযথ জন্মনিবন্ধন নিশ্চিতকরণ। অনেক সময় দেখা যায়, বয়স লুকিয়ে অল্পবয়স কিংবা বেশি বয়সের অনেকই ভিন্ন ক্লাসে ভর্তি হচ্ছে; যা অন্যের অধিকার যেমন খর্ব করছে তেমনি অনেক ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ কষ্ট করছে। ফলে যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দেশে ভালো স্কুলের সংখ্যা বাড়ানো না যাচ্ছে ততক্ষণ ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ভর্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া ও শুদ্ধ জন্মনিবন্ধন নিশ্চিতকরণ হতে পারে উত্তম সংস্কার। সবশেষে বলা যায়, শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি শিশুর সম্ভাবনাকে বিকশিত করা। অল্প বয়সে কঠোর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা চালু করা সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অপরদিকে লটারিভিত্তিক ভর্তিপদ্ধতি অন্তত সব শিশুর সমান সুযোগ নিশ্চিত করে। অতএব, লটারি পদ্ধতি বাতিল করার পরিবর্তে এর স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে এবং একইসঙ্গে মানসম্মত বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোই অধিক যুক্তিসঙ্গত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। একটি মানবিক ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো শিশুকে অল্প বয়সে ‘যোগ্য’ বা ‘অযোগ্য’ কিংবা ‘মেধাবী’ বা ‘মেধাহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা অশোভন; বরং প্রত্যেক শিশুকে শেখার এবং বিকশিত হওয়ার সমান সুযোগ দেওয়া উচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গিই আধুনিক শিক্ষাতত্ত্ব, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
লেখক:শিক্ষক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স